পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিনত বিবির মসজিদ, যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতানি আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনা মোগল স্থাপত্যের বহু পূর্বেই এই জনপদে ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল, যা এর অসামান্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
সাধারণত ঢাকার প্রাচীন মসজিদ বলতে মোগল আমলের দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীকেই বোঝানো হয়। তবে, বিনত বিবির মসজিদ সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। সুবেদার ইসলাম খাঁ কর্তৃক ১৬১০ সালে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানী ঘোষণার প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, যা এর প্রাচীনত্ব ও ঐতিহাসিক মূল্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
মসজিদে খোদিত শিলালিপি অনুসারে, ৮৬১ হিজরি, অর্থাৎ ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সে সময় বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির নির্মাতা ছিলেন আরকান আলী, যিনি বিনত বিবির বাবা হিসেবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক তথ্যমতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা বণিকরা সে সময় নদীপথে এই অঞ্চলে বাণিজ্য করতে আসতেন। পুরান ঢাকার বর্তমান নারিন্দা-ধোলাইখাল এলাকা দিয়ে তখন বুড়িগঙ্গার একটি শাখা নদী প্রবাহিত হতো, যা পরবর্তীতে শীতলক্ষ্যার সঙ্গে মিশেছিল। এমনই এক বাণিজ্যিক ও জনবসতিপূর্ণ পরিবেশে আরকান আলী এই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন এবং স্থানীয়দের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বিনত বিবির মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এটি ঢাকার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।
রিপোর্টারের নাম 
























