ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ট্রাম্পের ‘হার্ডলাইন’ নীতিতে টালমাটাল বিশ্বরাজনীতি: বাড়ছে অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণের শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী অবস্থান এবং তার ঘোষিত কঠোর নীতিমালার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক জোট এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি বিশ্বব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদের অভিজ্ঞতার আলোকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার দ্বিতীয় পর্যায়ের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের কৌশল বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের যে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব ও ব্যয়ভার কমানোর ঘোষণা ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংকটে ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের ধরন কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রাশিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা কমানোর ইঙ্গিত কিয়েভসহ পশ্চিমা বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ট্রাম্পের প্রভাব দৃশ্যমান। তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রণতরীর মহড়া বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই শক্তির প্রদর্শন কেবল বিরোধীদের জন্যই নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষার নাম। বহুপাক্ষিক চুক্তি থেকে সরে আসার প্রবণতা এবং একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে একটি মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর ও কিছুটা অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ট্রাম্পের এই শক্তিমত্তা প্রদর্শন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কোনো সমঝোতার পথে নিয়ে যায় নাকি এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। বৈশ্বিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাষ্ট্রই এখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কোনো জোট বা সমীকরণের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

ট্রাম্পের ‘হার্ডলাইন’ নীতিতে টালমাটাল বিশ্বরাজনীতি: বাড়ছে অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী অবস্থান এবং তার ঘোষিত কঠোর নীতিমালার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক জোট এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি বিশ্বব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদের অভিজ্ঞতার আলোকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার দ্বিতীয় পর্যায়ের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের কৌশল বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের যে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব ও ব্যয়ভার কমানোর ঘোষণা ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংকটে ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের ধরন কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রাশিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা কমানোর ইঙ্গিত কিয়েভসহ পশ্চিমা বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ট্রাম্পের প্রভাব দৃশ্যমান। তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রণতরীর মহড়া বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই শক্তির প্রদর্শন কেবল বিরোধীদের জন্যই নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষার নাম। বহুপাক্ষিক চুক্তি থেকে সরে আসার প্রবণতা এবং একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে একটি মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর ও কিছুটা অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ট্রাম্পের এই শক্তিমত্তা প্রদর্শন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কোনো সমঝোতার পথে নিয়ে যায় নাকি এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। বৈশ্বিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাষ্ট্রই এখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কোনো জোট বা সমীকরণের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।