ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বিমানের বহরে আসছে ১৪ নতুন উড়োজাহাজ: বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি এই মাসেই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই এই মেগা চুক্তি সই হতে পারে। প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই চুক্তিতে ১০টি ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে।

বিমান সূত্র অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০টি ড্রিমলাইনার (৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০ সিরিজ) এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক দাম চাওয়া হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সরকারের সম্মতি এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত অনুমোদনের পর বর্তমানে মূল্য ও শর্তাবলী নিয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে।

এই প্রক্রিয়ায় বিমান সর্বোচ্চ ছাড় আদায়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বোয়িংয়ের কাছে অন্তত ২০টি শর্ত পেশ করেছে। অন্যদিকে, বোয়িংও দামে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে একটি সংশোধিত খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা শিগগিরই বিমানের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষ একমত হলে দ্রুত চুক্তি সইয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে, যা চলতি মাসেই সম্পন্ন হতে পারে বলে বিমানের শীর্ষ মহল ইঙ্গিত দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এ বিষয়ে বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে চুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের প্রতিটি উড়োজাহাজের দাম চাওয়া হয়েছে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের বাজারমূল্যে নির্ধারিত। তবে ডেলিভারির সময় অর্থাৎ ২০৩১ ও ২০৩৫ সালে তৎকালীন ডলারের মূল্য এবং মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করে তা পরিশোধ করতে হবে। বিমানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রিমলাইনারের দাম প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ধরা হলেও ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ছাড়ে তা প্রায় ৮৬০ কোটি টাকায় নেমে আসে। মূল্যস্ফীতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকা যোগ হলে প্রতিটি ড্রিমলাইনারের চূড়ান্ত দাম প্রায় ৯০০ কোটি টাকা হতে পারে। একইভাবে, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের প্রতিটির দাম ৬৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৭৩ কোটি টাকা) চাওয়া হয়েছে, যা ৬০ শতাংশ ছাড়ে প্রায় ৩১০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। চূড়ান্ত দরদামে বড় ধরনের পার্থক্য নির্ভর করবে বোয়িং প্রদত্ত কমিশনের ওপর, যা সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, অর্থ ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল নেগোসিয়েশন কমিটি এই দরকষাকষি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের কাছে অন্তত ২০টি ক্ষেত্রে ছাড় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিমানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্য হ্রাস এবং পরিশোধ পদ্ধতি। বোয়িং চুক্তির সময় মোট দামের এক শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ চাইলেও বিমান তা কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। একইভাবে, ডেলিভারির দুই বছর আগে বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত ২৪ শতাংশ পরিশোধের বিপরীতে বিমান ১০ শতাংশ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে। বাকি পাওনা ডেলিভারির দিন পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও, বোয়িং বিমানের পাঁচজন প্রকৌশলীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বিমান তা বাড়িয়ে অন্তত ১০ জন প্রকৌশলীর প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, অন্তত চারটি উড়োজাহাজ ২০৩০ সালের আগেই ডেলিভারি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে বিমান। বোয়িং এ বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলেও মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছে যে, চুক্তিমোতাবেক নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অতীতেও বিমানের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়ার নজির রয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোয়িং দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী এবং প্রতিটি প্রস্তাবে দ্রুত জবাব দিচ্ছে। বিমানও সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে, চুক্তি চলতি মাসেই সই হলেও সব উড়োজাহাজের ডেলিভারি শেষ হতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। এই দীর্ঘ সময়ে বর্তমান বহরের সীমাবদ্ধতা বিমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণে লাভজনক অনেক রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো যাচ্ছে না এবং নতুন রুটও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য অন্তত চারটি উড়োজাহাজ লিজে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বোয়িংকে, যে বিষয়ে বোয়িং আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমান পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ডসভায় জানানো হয়। এসব বিমান যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই বিমানের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও এই চুক্তির জন্য তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই এগিয়ে যায়। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সরকারের বাণিজ্য শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

বিমানের বহরে আসছে ১৪ নতুন উড়োজাহাজ: বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি এই মাসেই

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই এই মেগা চুক্তি সই হতে পারে। প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই চুক্তিতে ১০টি ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে।

বিমান সূত্র অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০টি ড্রিমলাইনার (৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০ সিরিজ) এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক দাম চাওয়া হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সরকারের সম্মতি এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের নীতিগত অনুমোদনের পর বর্তমানে মূল্য ও শর্তাবলী নিয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে।

এই প্রক্রিয়ায় বিমান সর্বোচ্চ ছাড় আদায়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বোয়িংয়ের কাছে অন্তত ২০টি শর্ত পেশ করেছে। অন্যদিকে, বোয়িংও দামে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে একটি সংশোধিত খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা শিগগিরই বিমানের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষ একমত হলে দ্রুত চুক্তি সইয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে, যা চলতি মাসেই সম্পন্ন হতে পারে বলে বিমানের শীর্ষ মহল ইঙ্গিত দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা এ বিষয়ে বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে চুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের প্রতিটি উড়োজাহাজের দাম চাওয়া হয়েছে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের বাজারমূল্যে নির্ধারিত। তবে ডেলিভারির সময় অর্থাৎ ২০৩১ ও ২০৩৫ সালে তৎকালীন ডলারের মূল্য এবং মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করে তা পরিশোধ করতে হবে। বিমানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রিমলাইনারের দাম প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ধরা হলেও ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ছাড়ে তা প্রায় ৮৬০ কোটি টাকায় নেমে আসে। মূল্যস্ফীতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকা যোগ হলে প্রতিটি ড্রিমলাইনারের চূড়ান্ত দাম প্রায় ৯০০ কোটি টাকা হতে পারে। একইভাবে, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের প্রতিটির দাম ৬৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৭৩ কোটি টাকা) চাওয়া হয়েছে, যা ৬০ শতাংশ ছাড়ে প্রায় ৩১০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। চূড়ান্ত দরদামে বড় ধরনের পার্থক্য নির্ভর করবে বোয়িং প্রদত্ত কমিশনের ওপর, যা সাধারণত ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, অর্থ ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল নেগোসিয়েশন কমিটি এই দরকষাকষি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের কাছে অন্তত ২০টি ক্ষেত্রে ছাড় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিমানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্য হ্রাস এবং পরিশোধ পদ্ধতি। বোয়িং চুক্তির সময় মোট দামের এক শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ চাইলেও বিমান তা কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। একইভাবে, ডেলিভারির দুই বছর আগে বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত ২৪ শতাংশ পরিশোধের বিপরীতে বিমান ১০ শতাংশ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে। বাকি পাওনা ডেলিভারির দিন পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও, বোয়িং বিমানের পাঁচজন প্রকৌশলীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বিমান তা বাড়িয়ে অন্তত ১০ জন প্রকৌশলীর প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, অন্তত চারটি উড়োজাহাজ ২০৩০ সালের আগেই ডেলিভারি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে বিমান। বোয়িং এ বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলেও মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছে যে, চুক্তিমোতাবেক নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অতীতেও বিমানের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়ার নজির রয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোয়িং দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী এবং প্রতিটি প্রস্তাবে দ্রুত জবাব দিচ্ছে। বিমানও সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে, চুক্তি চলতি মাসেই সই হলেও সব উড়োজাহাজের ডেলিভারি শেষ হতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। এই দীর্ঘ সময়ে বর্তমান বহরের সীমাবদ্ধতা বিমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণে লাভজনক অনেক রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো যাচ্ছে না এবং নতুন রুটও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য অন্তত চারটি উড়োজাহাজ লিজে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বোয়িংকে, যে বিষয়ে বোয়িং আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমান পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ডসভায় জানানো হয়। এসব বিমান যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই বিমানের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও এই চুক্তির জন্য তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই এগিয়ে যায়। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সরকারের বাণিজ্য শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।