আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ’-এর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষকরা। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনের আজাদ সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা এই দাবি উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ এবং ১৯৮৪ সালের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমমান ও একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চরম অবহেলার শিকার। ২০১৩ সালে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এমনকি ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া মাত্র ৫০০ টাকার বৈষম্যমূলক ভাতা আজও শিক্ষকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি।
সংগঠনের মহাসচিব মো. রেজাউল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহবাগে শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে সকল স্বতন্ত্র মাদরাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা পর্যায় থেকে তথ্যপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর এমপিওভুক্তির তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা, অনুদানবিহীন মাদরাসাগুলোকে দ্বিতীয় পর্যায়ে দ্রুত এমপিওভুক্তির আওতায় আনা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে মাদরাসা জাতীয়করণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাইন উদ্দীন, উপাধ্যক্ষ মো. আবদুর রহমান, অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন, ড. মুহাম্মদ ঈশা সাহেদী, মাওলানা মোছলেহ্ উদ্দিন, মাওলানা খলিলুর রহমান, ওমর ফারুক আকন্দ, এল. এম রফিকুল ইসলাম, মো. আঃ আলিম, মেহেদী হাসান, আলী জিন্নাহ ও আব্দুস সাত্তারসহ আরও অনেকে। শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























