বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির সঙ্গে থাকা দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারক মহলের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সীমান্তকে কোনোভাবেই ‘হালকাভাবে’ দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম এবং মিজোরামের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং মাঠ পর্যায়ের জওয়ানদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সীমান্তে জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। রাতের আঁধারে নজরদারি নিশ্চিত করতে থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ড্রোন এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীপথের সীমান্তগুলোতেও বিএসএফের স্পিডবোট টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও সমন্বয় সভা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, যাতে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে প্রতিদিনের প্রতিবেদন সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কড়া অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বজায় রেখেও নিজেদের সীমান্ত নিশ্ছিদ্র রাখাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 
























