মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

জালিয়াতির কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হচ্ছে দুয়ার: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

বাংলাদেশের সর্বত্র জালিয়াতির ব্যাপকতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বরে। তিনি জানান, দেশের জালিয়াতির কারণে বহু দেশ বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করতে চাইছে না এবং বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিচ্ছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রায় সবকিছুই জাল। ভিসা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট পর্যন্ত নকল করা হচ্ছে। তিনি এটিকে ‘জালিয়াতের কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আমেরিকান ভিসার জালিয়াতির উদাহরণ টেনে বলেন, যদি আমাদের বুদ্ধি না থাকতো, তাহলে আমরা জালিয়াতি করতে পারতাম না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই মেধা খারাপ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, যারা জালিয়াতি করতে জানে, তাদের মধ্যে প্রচুর সৃজনশীলতা থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওই দেশটি বহু বছর ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে রেখেছে। শুধু শ্রমিক নয়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিককেই তারা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, এমন একটি-দুটি নয়, আরও অনেক দেশ রয়েছে যেখানে বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত। ওই মন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশিরা কেন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে তা দেখতে তিনি নিজে খোঁজ নিয়েছেন এবং দেখেছেন, নানা ধরনের জালিয়াতির কারণে এমনটি ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সার্টিফিকেট, এমনকি একজন নারী ডাক্তারের ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতে এসেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, যদি আমরা নিজেদের সংশোধন না করি এবং জালিয়াতির এই মূল উৎপাটন না করি, তাহলে প্রযুক্তিও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হাজার হাজার মানুষ ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছে, যেখানে প্রবেশাধিকারের অনুমতি থেকে শুরু করে ব্যাংক সার্টিফিকেট পর্যন্ত সবকিছুই জাল। এমনকি সরকারি পর্যায় থেকেও এসব জাল কাগজপত্র ইস্যু করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করতে হলে আমাদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, “এই দেশ জালিয়াতির কারখানা হবে না। আমরা এটা চাই না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব যোগ্যতায় সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এই প্রযুক্তির বৈঠকে তিনি সবাইকে জালিয়াতি থেকে সরে আসার এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মনস্থির করতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, একটি জনবান্ধব সরকার গড়ে তুলে সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ‘ফার্স্ট কনক্লেভ’ রোববার: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দিকনির্দেশনা

জালিয়াতির কারণে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হচ্ছে দুয়ার: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সর্বত্র জালিয়াতির ব্যাপকতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বরে। তিনি জানান, দেশের জালিয়াতির কারণে বহু দেশ বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করতে চাইছে না এবং বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিচ্ছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রায় সবকিছুই জাল। ভিসা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট পর্যন্ত নকল করা হচ্ছে। তিনি এটিকে ‘জালিয়াতের কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আমেরিকান ভিসার জালিয়াতির উদাহরণ টেনে বলেন, যদি আমাদের বুদ্ধি না থাকতো, তাহলে আমরা জালিয়াতি করতে পারতাম না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই মেধা খারাপ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, যারা জালিয়াতি করতে জানে, তাদের মধ্যে প্রচুর সৃজনশীলতা থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ওই দেশটি বহু বছর ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে রেখেছে। শুধু শ্রমিক নয়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিককেই তারা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, এমন একটি-দুটি নয়, আরও অনেক দেশ রয়েছে যেখানে বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত। ওই মন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশিরা কেন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে তা দেখতে তিনি নিজে খোঁজ নিয়েছেন এবং দেখেছেন, নানা ধরনের জালিয়াতির কারণে এমনটি ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সার্টিফিকেট, এমনকি একজন নারী ডাক্তারের ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতে এসেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, যদি আমরা নিজেদের সংশোধন না করি এবং জালিয়াতির এই মূল উৎপাটন না করি, তাহলে প্রযুক্তিও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হাজার হাজার মানুষ ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছে, যেখানে প্রবেশাধিকারের অনুমতি থেকে শুরু করে ব্যাংক সার্টিফিকেট পর্যন্ত সবকিছুই জাল। এমনকি সরকারি পর্যায় থেকেও এসব জাল কাগজপত্র ইস্যু করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করতে হলে আমাদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, “এই দেশ জালিয়াতির কারখানা হবে না। আমরা এটা চাই না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব যোগ্যতায় সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এই প্রযুক্তির বৈঠকে তিনি সবাইকে জালিয়াতি থেকে সরে আসার এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মনস্থির করতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, একটি জনবান্ধব সরকার গড়ে তুলে সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।