ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নির্দেশিকা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ক্যাডেটদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ক্যাডেটদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত সাতটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত বিএনসিসি ক্যাডেটরা ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো, কেন্দ্রের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী ভোটারদের ভোট প্রদানে সহায়তা করবেন। এছাড়াও, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং রিটার্নিং অফিসার বা প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনের ক্ষেত্রে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, নির্বাচনি দায়িত্ব প্রদানের পূর্বে প্রত্যেক ক্যাডেটের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসারের সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে ক্যাডেট মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা সদর এবং উপজেলা সদরে ক্যাডেট মোতায়েনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ক্যাডেট মোতায়েনের ক্ষেত্রে, যথাসম্ভব নিজ উপজেলায় দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অন্তত দশজন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম দুইজন বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়োজিত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের পূর্বদিন থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে, ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মোতায়েনকৃত কোনো বিএনসিসি ক্যাডেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রকার প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না। একইসাথে, ভোটারদের কোনো নির্দিষ্ট দল, ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের পূর্বে বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করবেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএনসিসি ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে চাহিদা অনুযায়ী বহন করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

জাতীয় নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার নির্দেশিকা

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ক্যাডেটদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ক্যাডেটদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত সাতটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত বিএনসিসি ক্যাডেটরা ভোটারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো, কেন্দ্রের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী ভোটারদের ভোট প্রদানে সহায়তা করবেন। এছাড়াও, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং রিটার্নিং অফিসার বা প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনের ক্ষেত্রে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, নির্বাচনি দায়িত্ব প্রদানের পূর্বে প্রত্যেক ক্যাডেটের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসারের সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে ক্যাডেট মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা সদর এবং উপজেলা সদরে ক্যাডেট মোতায়েনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ক্যাডেট মোতায়েনের ক্ষেত্রে, যথাসম্ভব নিজ উপজেলায় দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অন্তত দশজন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম দুইজন বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়োজিত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের পূর্বদিন থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে, ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মোতায়েনকৃত কোনো বিএনসিসি ক্যাডেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রকার প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না। একইসাথে, ভোটারদের কোনো নির্দিষ্ট দল, ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের পূর্বে বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করবেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএনসিসি ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে চাহিদা অনুযায়ী বহন করা হবে।