ঢাকার একটি আদালত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মহানগর (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানির পর আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) একই আদালত রুবেলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান যে, রুবেল রিমান্ডে থাকাকালীন কিছু তথ্য দিয়েছে, তবে সেগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্যের প্রয়োজন। এজন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, হাদি হত্যা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না এবং রুবেল এই মামলার অন্যতম আসামি। তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসার পর আরও তথ্য পাওয়া যাবে। মামলার ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানান তিনি।
আসামি রুবেল আদালতের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি একটি চাকরি করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি মনে করেন, তার আদাবরের বাসার ঠিকানার কারণে তাকে ভুল করে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান যে, এই রুবেল এবং মামলায় অভিযুক্ত অন্য রুবেলের নাম একই হলেও, গ্রেপ্তারকৃত রুবেলও হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের একজন সহযোগী। তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি ছয় দিনের রিমান্ডে ছিলেন। এই তথ্য জানার পর আদালত বলেন যে, তাকে অন্য রুবেল হিসেবে ধরা হয়নি। এরপরই আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























