ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিভাগীয় প্রধানকে অপহরণের অভিযোগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একটি নিয়োগ বোর্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) সকাল আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। ব্যবসায় প্রশাসন ভবন ঘুরে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এই মিছিলে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবীর, মুখ্য সংগঠক গোলাম রাব্বানী, সোচ্চারের সভাপতি রাহাত আবদুল্লাহসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টায় ওই বিভাগে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর প্রেক্ষিতে সকাল ৮টায় অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ঝিনাইদহে নিজ বাসভবন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদলের নেতা সাহেদ আহম্মেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, THM বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং সকালে তাকে ফোন করে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক জুয়েলকে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং গত সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে কিছু লোক পাঠিয়ে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে চারজন শিক্ষককে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ জোরপূর্বক মুছে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক জুয়েল বর্তমানে তার নিজ বাসা ঝিনাইদহে নিরাপদে অবস্থান করছেন।

তবে, অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল একটি ফেসবুক লাইভে এসে জানান যে তিনি নিজ বাসায় আছেন এবং সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় সাহেদ আহম্মেদ তাকে তার বাসায় পৌঁছে দেন এবং তিনি কোনো প্রকার অপহরণের শিকার হননি। তিনি আরও জানান যে, গত পরশুদিন বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল এবং তারপর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অধ্যাপক জুয়েলের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখানে তাকে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, উক্ত বিভাগের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থভাবে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিভাগীয় প্রধানকে অপহরণের অভিযোগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একটি নিয়োগ বোর্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) সকাল আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। ব্যবসায় প্রশাসন ভবন ঘুরে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এই মিছিলে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবীর, মুখ্য সংগঠক গোলাম রাব্বানী, সোচ্চারের সভাপতি রাহাত আবদুল্লাহসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টায় ওই বিভাগে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর প্রেক্ষিতে সকাল ৮টায় অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম ঝিনাইদহে নিজ বাসভবন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদলের নেতা সাহেদ আহম্মেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, THM বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং সকালে তাকে ফোন করে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক জুয়েলকে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং গত সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে কিছু লোক পাঠিয়ে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে চারজন শিক্ষককে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ জোরপূর্বক মুছে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক জুয়েল বর্তমানে তার নিজ বাসা ঝিনাইদহে নিরাপদে অবস্থান করছেন।

তবে, অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল একটি ফেসবুক লাইভে এসে জানান যে তিনি নিজ বাসায় আছেন এবং সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টায় সাহেদ আহম্মেদ তাকে তার বাসায় পৌঁছে দেন এবং তিনি কোনো প্রকার অপহরণের শিকার হননি। তিনি আরও জানান যে, গত পরশুদিন বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল এবং তারপর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অধ্যাপক জুয়েলের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখানে তাকে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, উক্ত বিভাগের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থভাবে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।