দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা ঋণ ও প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, শিল্পকারখানার মালিকরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনেক ক্ষেত্রে বড় অংকের ছাড় পান, অথচ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের মানুষের মুখে অন্ন জুটছে, সেই কৃষকরাই অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কৃষি উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ কমলেও জনসংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কৃষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—অনেকেই কৃষকদের অবদানের কথা ভুলে যান। বড় বড় সেমিনারে কৃষকদের প্রতিনিধি হিসেবে যারা উপস্থিত থাকেন, তাদের মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সরাসরি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত, তাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, কৃষি খাতের প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে মাঠ পর্যায়ের চাষিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের পেছনে ফেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে উপদেষ্টা জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে ‘আউটলুক ২০৫০’ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো—আগামী তিন দশকে দেশের কৃষিকে টেকসই, জলবায়ু সহনশীল, উদ্ভাবননির্ভর এবং অধিক উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তোলা। একইসঙ্গে কৃষিপণ্যকে বাজারমুখী করার মাধ্যমে কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























