ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন করে চালানো বড় আকারের হামলায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর চালানো এই হামলায় বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো এবং একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর পর দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে প্রায় ২০০ আরোহী নিয়ে চলাচলকারী একটি ট্রেনের ওপর ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ড্রোনটি সরাসরি ট্রেনের একটি বগিতে আঘাত হানলে অন্তত পাঁচজন যাত্রী নিহত হন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেনে বেসামরিক মানুষ হত্যার কোনো সামরিক যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলার পর বগিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রাশিয়ার এই হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওডেসায় ৫০টিরও বেশি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে মস্কো। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সেখানে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ওডেসার গভর্নর ওলেগ কিপার জানান, আহতদের মধ্যে ৩৯ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই কিশোরী রয়েছে। কৃষ্ণসাগর তীরের এই শহরটি ইউক্রেনের পণ্য রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এটি রাশিয়ার নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার পর বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনগুলোতে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মস্কোর ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে, কারণ প্রতিটি হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এরপরও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। এর ফলে তীব্র শীতের মধ্যে দেশটির লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী ধাপের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























