চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অবৈধভাবে সিট দখলের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিককে হল থেকে টেনে পাহাড়ে নিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে এ হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) একজন সদস্য। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. সিফাতুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে এম. মিজানুর রহমানকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে হুমকি দেন এক ব্যক্তি। ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডে হুমকিদাতা নিজেকে ‘সালমান (আব্দুস সালাম সালমান)’ পরিচয় দিয়ে সাংবাদিককে অশালীন ও হুমকিভরা ভাষায় মারধরের হুমকি দেন। তিনি বলেন, “আপনি যে নিউজ করলেন, আপনাকে এটার অনুমতি দিলো কে? … একেবারে ভাইঙ্গা দিমু। ফরহাদ হল থেইকা টাইন্না নিয়া নীড়া পাহাড়ে উডামু। এমন কেউ নেই যে আপনাকে রক্ষা করতে পারবে।”
জানা গেছে, আব্দুস সালাম সালমান অভিযুক্ত মো. সিফাতুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মূলত সালমানকে হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা নিয়েই সাংবাদিক এম. মিজানুর রহমান সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন।
হুমকির বিষয়ে জানতে আব্দুস সালাম সালমানকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি এক গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি হুমকি দেইনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না,” বলে কল কেটে দেন। যে নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরে পুনরায় যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত মো. সিফাতুল ইসলাম কল রিসিভ করেন এবং হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, “আমি এখন ক্রিকেট খেলার মাঠে আছি,” এরপর ফোন কেটে দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম. মিজানুর রহমান তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, সংবাদের কোনো অংশে অসত্য থাকলে সংশোধনের অনুরোধ, প্রতিবাদলিপি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একজন সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারী আব্দুস সালাম সালমান শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটির সদস্য বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে অবৈধভাবে অবস্থান করায় সালমানকে একাধিকবার হলত্যাগের নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।
অনুসারীর এমন হুমকির বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “যদি সে এমন কথা বলে থাকে, তাহলে তা অন্যায়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছি। তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টারের নাম 
























