ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান: বিএনপিতে চাঞ্চল্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কাশেমসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভ্যন্তরে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও আমীর ডা. শফিকুর রহমান নবযোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে মৎস্যজীবী দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কাশেম তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দলের বর্তমান নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে আমরা হতাশ। জনগণের অধিকার আদায়ে এবং একটি আদর্শিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা মনে করি, এই প্ল্যাটফর্মেই দেশের মানুষের জন্য কার্যকর কিছু করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, তারা জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি ও দেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতায় আস্থাশীল হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নবযোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশের ক্রান্তিকালে যারা আদর্শ ও ন্যায়ের পথে শামিল হচ্ছেন, তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই। মৎস্যজীবী দলের ভাইদের এই যোগদান আমাদের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের এই যোগদানে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

এদিকে, মৎস্যজীবী দলের এই গণযোগদানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা মন্তব্য করেছেন, “যারা দল ছেড়ে গেছেন, তারা আসলে সুবিধাবাদী। যেকোনো রাজনৈতিক দলেই এমন ঘটনা ঘটে। এতে দলের মূল ভিত্তির কোনো ক্ষতি হবে না।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের এত সংখ্যক নেতাকর্মীর দলবদল নিঃসন্দেহে দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা। এটি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও ইঙ্গিত করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে মৎস্যজীবী দলের পরিচিতি রয়েছে। তাদের এই দলবদল আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান: র‍্যাবের গাড়িতে হামলা, আটক ২

মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান: বিএনপিতে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কাশেমসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভ্যন্তরে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও আমীর ডা. শফিকুর রহমান নবযোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে মৎস্যজীবী দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কাশেম তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দলের বর্তমান নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে আমরা হতাশ। জনগণের অধিকার আদায়ে এবং একটি আদর্শিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা মনে করি, এই প্ল্যাটফর্মেই দেশের মানুষের জন্য কার্যকর কিছু করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, তারা জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি ও দেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতায় আস্থাশীল হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নবযোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশের ক্রান্তিকালে যারা আদর্শ ও ন্যায়ের পথে শামিল হচ্ছেন, তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই। মৎস্যজীবী দলের ভাইদের এই যোগদান আমাদের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের এই যোগদানে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

এদিকে, মৎস্যজীবী দলের এই গণযোগদানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা মন্তব্য করেছেন, “যারা দল ছেড়ে গেছেন, তারা আসলে সুবিধাবাদী। যেকোনো রাজনৈতিক দলেই এমন ঘটনা ঘটে। এতে দলের মূল ভিত্তির কোনো ক্ষতি হবে না।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের এত সংখ্যক নেতাকর্মীর দলবদল নিঃসন্দেহে দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা। এটি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও ইঙ্গিত করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে মৎস্যজীবী দলের পরিচিতি রয়েছে। তাদের এই দলবদল আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।