পার্বত্য চট্টগ্রামে ডিজিটাল শিক্ষার নতুন দিগন্ত: ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন
ঢাকা: দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “সারাবিশ্বে ইন্টারনেট পৌঁছে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলে এর প্রসার দেরিতে হওয়ায় আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। সরকার এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলকে দ্রুত মূল স্রোতে আনতে বদ্ধপরিকর।” তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম ১৪৯টি বিদ্যালয়ে সম্প্রসারিত হবে।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনবদ্য হলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ভালো শিক্ষকরা সেখানে যেতে আগ্রহী হন না। ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে। শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের কাছে তাদের পছন্দের বিষয়ে পাঠ নিতে পারবে, যা শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি, দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতাও দূর হবে। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনেই চিকিৎসকের পরামর্শ ও সহায়তা নিতে পারবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষও অন্য সকল নাগরিকের ন্যায় সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাদের পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।” তিনি সরকারের এই অযোগ্যতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদরাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল, বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পরে প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মত বিনিময় করেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে এটি এক নতুন মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে পিছিয়ে রাখতে চায় না, বরং তাদের বিশ্ব ও দেশের সাথে আরও সংযুক্ত করতে চায়।”
রিপোর্টারের নাম 























