ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গালফুড ২০২৬: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, অংশ নিচ্ছে ৩৪ প্রতিষ্ঠান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দুবাইয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় মেলা ‘গালফুড ২০২৬’-এর ৩১তম আসর। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি গতিশীল করতে এই মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৩৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অর্থায়নে এই অংশগ্রহণ দেশের কৃষিভিত্তিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুবাইয়ে পর্দা উঠেছে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা। আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ডিডব্লিউটিসি), দুবাই এক্সিবিশন সেন্টার (ডিইসি) এবং এক্সপো সিটির দুটি সুবিশাল ভেন্যুতে চলবে এ আয়োজন। বিশ্বের ১৯০টিরও অধিক দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং নীতিনির্ধারকদের পদচারণায় মুখরিত এই মেলা।

মেলার উদ্বোধনী দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মেলা পরিচালক মো. ওয়ারেস হোসেন, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর আশীষ কুমার সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. আব্দুল কাদেরসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারের সাউথ হল-১২-এ অবস্থিত সুসজ্জিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের মোট ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ৭২ জন প্রদর্শক তাঁদের পণ্য তুলে ধরছেন। প্যাভিলিয়নে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, বিভিন্ন প্রকার স্ন্যাকস, মশলা, চাল, পানীয়, কৃষিভিত্তিক দেশীয় পণ্য এবং মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্যসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পরিবেশক এবং বিপণনকারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও বি২বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে নতুন নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন সহজ হবে এবং বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্বের ১৫০টিরও অধিক দেশে সফলভাবে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে হালাল ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে ‘গালফুড’ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গালফুড ২০২৬: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, অংশ নিচ্ছে ৩৪ প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দুবাইয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় মেলা ‘গালফুড ২০২৬’-এর ৩১তম আসর। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি গতিশীল করতে এই মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৩৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অর্থায়নে এই অংশগ্রহণ দেশের কৃষিভিত্তিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুবাইয়ে পর্দা উঠেছে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা। আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ডিডব্লিউটিসি), দুবাই এক্সিবিশন সেন্টার (ডিইসি) এবং এক্সপো সিটির দুটি সুবিশাল ভেন্যুতে চলবে এ আয়োজন। বিশ্বের ১৯০টিরও অধিক দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং নীতিনির্ধারকদের পদচারণায় মুখরিত এই মেলা।

মেলার উদ্বোধনী দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মেলা পরিচালক মো. ওয়ারেস হোসেন, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর আশীষ কুমার সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. আব্দুল কাদেরসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারের সাউথ হল-১২-এ অবস্থিত সুসজ্জিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের মোট ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ৭২ জন প্রদর্শক তাঁদের পণ্য তুলে ধরছেন। প্যাভিলিয়নে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, বিভিন্ন প্রকার স্ন্যাকস, মশলা, চাল, পানীয়, কৃষিভিত্তিক দেশীয় পণ্য এবং মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্যসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পরিবেশক এবং বিপণনকারীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও বি২বি (বিজনেস-টু-বিজনেস) নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে নতুন নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন সহজ হবে এবং বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্বের ১৫০টিরও অধিক দেশে সফলভাবে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে হালাল ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে ‘গালফুড’ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।