যশোর বিমানবন্দর মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মহড়ার সাক্ষী হলো, যার নাম ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ–২০২৬’। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মান ও নির্দেশিকা এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচির (NCASP) সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। প্রতি দুই বছর অন্তর এই ধরনের মহড়া বাধ্যতামূলক, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি, যেমন বিমান হাইজ্যাক বা বোমা হামলার মতো পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
মহড়ার দৃশ্যপটে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিমান ১০ জন যাত্রী নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের মাত্র ১০ মিনিট পরেই যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বেনামী ফোন আসে, যেখানে বিমানের ভেতরে বোমা রাখার হুমকি দেওয়া হয়। এই খবর পাওয়া মাত্রই কন্ট্রোল টাওয়ারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়। কন্ট্রোল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এভিয়েশন সিকিউরিটি ইন-চার্জকে অবহিত করে এবং বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনকে স্ট্যান্ডবাই থাকার নির্দেশ দেয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক তাৎক্ষণিকভাবে রিস্ক অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং জরুরি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করেন। এরপর EOC বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, এবং মেডিকেল ইউনিটসহ সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে।
এই মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন, আনসার, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা অংশগ্রহণ করে।
বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মহড়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে এই ধরনের মহড়া সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়ক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মহড়া আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল এবং সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যায়। চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ICAO নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতেও এই মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, তিনি জানান যে যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যমান রানওয়ে শক্তিশালীকরণের কাজ চলছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বড় আকারের বিমান নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবে।
মহড়ায় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























