ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্যের বৃহত্তর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট: উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর কার্যকর বাস্তবায়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এই সভার আয়োজন করে।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভুল ধারণা প্রচার করা হচ্ছে যে, তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তিনি বলেন, “এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকায় দেশ চলছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।” এই যুক্তির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। “তামাক কোম্পানি কত রাজস্ব দেয়, সেটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকে; কিন্তু তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা প্রায়শই আড়াল করা হয়,” – এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি শেয়ার রয়েছে এমন তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মানুষের জীবনহানি ঘটায় এমন কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করে জনগণের ক্ষতি রোধ করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টার তামাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘তিনি কেবল আইন প্রণয়নের ওপরই জোর দেননি, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।’’ তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপটি প্রণয়ন করেছে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অন্তত বর্তমান সরকারের সময়ে এই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচী পরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর-সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্যের বৃহত্তর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট: উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর কার্যকর বাস্তবায়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এই সভার আয়োজন করে।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভুল ধারণা প্রচার করা হচ্ছে যে, তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তিনি বলেন, “এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকায় দেশ চলছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।” এই যুক্তির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। “তামাক কোম্পানি কত রাজস্ব দেয়, সেটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকে; কিন্তু তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা প্রায়শই আড়াল করা হয়,” – এমন মত প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি শেয়ার রয়েছে এমন তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মানুষের জীবনহানি ঘটায় এমন কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করে জনগণের ক্ষতি রোধ করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টার তামাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ‘‘তিনি কেবল আইন প্রণয়নের ওপরই জোর দেননি, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।’’ তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপটি প্রণয়ন করেছে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অন্তত বর্তমান সরকারের সময়ে এই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচী পরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর-সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।