আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোটাধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। মঙ্গলবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের সকল নাগরিকের মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীরও সমানভাবে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়াও লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, দীপায়ন খীসা এবং মেইনথিন প্রমিলা বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা, তাদের জন্য খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে কোনো প্রকার হয়রানি বন্ধ করা। পাশাপাশি সমতল ও পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনপন্থী সকল রাজনৈতিক দল এবং আগত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নে সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তারা পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্বের অবসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে যথাযথ ক্ষমতায়ন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করে শরণার্থীদের পুনর্বাসন এবং তাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়াও দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণেরও দাবি জানানো হয়।
মূল বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো অধরা। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে অনেক আদিবাসী জনগণ জনগণনা ও জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন। ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব এবং নৌযানের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য নির্বাচনকালীন যান চলাচল নিষেধাজ্ঞাও তাদের ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করে।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা পার্বত্য সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরও উদ্যোগী ভূমিকা দেখতে চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচন অতীতের চেয়ে ভালো হবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের জন্য সকল সুবিধা প্রদান করা হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান নির্বাচন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দলগুলোকে নিবন্ধিত করার সুযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এই আইনি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন এবং এ ব্যাপারে পার্বত্য নেতৃবৃন্দের আগ্রহ রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























