ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সচিবালয়ে বিমান দুর্ঘটনা প্রত্যাশা: আমলাতন্ত্রের ওপর জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

একটি বিমান দুর্ঘটনা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নয়, বরং সচিবালয়ে ঘটা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ শুধু সচিবালয়ের প্রতি নয়, বরং সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রতিই ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তিনি আমলাতন্ত্রকে ‘জগদ্দল পাথরের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি জনগণের ওপর চেপে বসে আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মানবিক দায়িত্ববোধ অবশিষ্ট নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা গাড়িতে চড়েন, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।

দেশের অগ্রগতিতে আমলাতন্ত্রকে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, সড়ক সংক্রান্ত নীতিমালা (স্ক্যাপ নীতিমালা) প্রণয়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছেন। ব্ল্যাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইকে এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছেন, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি মনে করেন, আমলারা পরিবর্তন চান না; বরং তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বেতন স্কেল বাড়ানো এবং দুর্নীতির সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে আগ্রহী। সাধারণ মানুষের জীবনহানি নিয়েও তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে রয়েছি, কিন্তু এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে – হয় নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে, অথবা বড় ধরনের বিপর্যয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলে মিলে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী। বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই বহুল আলোচিত ঘটনা তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একটি ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সচিবালয়ে বিমান দুর্ঘটনা প্রত্যাশা: আমলাতন্ত্রের ওপর জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

একটি বিমান দুর্ঘটনা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নয়, বরং সচিবালয়ে ঘটা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ শুধু সচিবালয়ের প্রতি নয়, বরং সরকারি প্রতিটি দপ্তরের প্রতিই ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তিনি আমলাতন্ত্রকে ‘জগদ্দল পাথরের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি জনগণের ওপর চেপে বসে আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মানবিক দায়িত্ববোধ অবশিষ্ট নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা গাড়িতে চড়েন, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।

দেশের অগ্রগতিতে আমলাতন্ত্রকে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, সড়ক সংক্রান্ত নীতিমালা (স্ক্যাপ নীতিমালা) প্রণয়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছেন। ব্ল্যাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইকে এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছেন, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি মনে করেন, আমলারা পরিবর্তন চান না; বরং তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বেতন স্কেল বাড়ানো এবং দুর্নীতির সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে আগ্রহী। সাধারণ মানুষের জীবনহানি নিয়েও তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে রয়েছি, কিন্তু এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে – হয় নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে, অথবা বড় ধরনের বিপর্যয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলে মিলে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী। বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই বহুল আলোচিত ঘটনা তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একটি ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।