ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজনমুক্ত রাষ্ট্র গড়বে ‘জুলাই সনদ’: আলী রীয়াজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই সনদ দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন বাংলাদেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করবে না এবং এই সনদ সবার সমান অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টিদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক স্বদেশ গড়ার স্বপ্নে আমাদের অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর যে সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, তাকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ জর্জরিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রচলিত শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া সময়ের দাবি।

সংবিধানের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেন আর অতীতের মতো স্বৈরাচারী না হয়, সেজন্য বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশ নেওয়া জরুরি। জনগণের রায়েই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে সবকিছুই নির্ধারিত হতো প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়। কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতি কিছু নিয়োগ দিলেও বাস্তবে সেখানে কোনো স্বাধীনতা ছিল না। নির্বাচন কমিশন বা বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগগুলোও ছিল সরকারপ্রধানের ইচ্ছাধীন। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করতে হবে।

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আইনটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে অনেকটা ‘স্কচটেপ’ এঁটে দেওয়ার মতো। প্রস্তাবিত সংস্কারে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল চেতনা ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে একজন নাগরিকের পরিচয় হবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়গুলো নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দেশ গড়ার এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ ওরাওঁ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্মীয় পরিচয়ে বিভাজনমুক্ত রাষ্ট্র গড়বে ‘জুলাই সনদ’: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদ দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন বাংলাদেশে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করবে না এবং এই সনদ সবার সমান অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টিদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক স্বদেশ গড়ার স্বপ্নে আমাদের অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর যে সুবর্ণ সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, তাকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ জর্জরিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রচলিত শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া সময়ের দাবি।

সংবিধানের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ যেন আর অতীতের মতো স্বৈরাচারী না হয়, সেজন্য বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশ নেওয়া জরুরি। জনগণের রায়েই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে সবকিছুই নির্ধারিত হতো প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়। কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতি কিছু নিয়োগ দিলেও বাস্তবে সেখানে কোনো স্বাধীনতা ছিল না। নির্বাচন কমিশন বা বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগগুলোও ছিল সরকারপ্রধানের ইচ্ছাধীন। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করতে হবে।

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আইনটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে অনেকটা ‘স্কচটেপ’ এঁটে দেওয়ার মতো। প্রস্তাবিত সংস্কারে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল চেতনা ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ গঠন করা, যেখানে একজন নাগরিকের পরিচয় হবে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়গুলো নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দেশ গড়ার এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ ওরাওঁ।