ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যানে বড় ধরনের গরমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশটির সরকার গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮০৮ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি করলেও, এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মুখে নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটনের ক্রমাগত চাপের মুখে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে আটক ব্যক্তিদের কারামুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চললেও, গত শনিবার আকস্মিকভাবে ১০০ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনও বহু রাজনৈতিক কর্মীর পরিবার তাদের প্রিয়জনের অপেক্ষায় কারাগারের ফটকে ও অস্থায়ী শিবিরে দিন গুনছেন।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানান, ডিসেম্বর মাসের আগে থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ৮০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানের জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। এর আগে শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৬২৬ জন মুক্তি পেয়েছেন। রদ্রিগেজের দাবি অনুযায়ী, এই বন্দি মুক্তি প্রক্রিয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আমলেই শুরু হয়েছিল।
এদিকে সরকারি এই হিসাবকে চ্যালেঞ্জ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৮৩ জন বন্দির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে, যার মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬৬ জন কারাগার থেকে বের হতে পেরেছেন।
ফোরো পেনালের সহ-সভাপতি গনসালো হিমিওব জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া সংখ্যার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলোর দাবি, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা নেই এবং বন্দি মুক্তির বিষয়ে এনজিওগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করতে সরকার বাধ্য নয়।
মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, সরকারি বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে এখনও শত শত বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্দি মুক্তি নিয়ে এই তথ্য বিভ্রাট দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























