ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ২৩ সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আটকা পড়া ২৩ জন নৌসেনা প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির নৌবাহিনী মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার ভোরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে আকস্মিক এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই গ্রামটি একটি পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত।

নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গগুল জানান, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি সীমান্তে টহল কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে চলমান একটি প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “চরম আবহাওয়ার কারণে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে প্রশিক্ষণস্থলে ভূমিধস দেখা দেয়।”

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (BNPB) মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বের ১৭ জনের সংখ্যা থেকে বেশি। এখনও ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের এই তালিকায় সেনাসদস্যরা অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এবং উদ্ধারকাজে প্রায় ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নয়টি খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। আবদুল মুহারি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম থেকে প্রায় ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে জাভা দ্বীপ বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত সপ্তাহে রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা পরিলক্ষিত হয়েছে।

এই ঘটনার মাত্র দুই মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসের প্রভাবে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই দুর্যোগে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল এবং এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও দেশে মবের ঘটনা অব্যাহত: সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ২৩ সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

আপডেট সময় : ০৩:০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় আটকা পড়া ২৩ জন নৌসেনা প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির নৌবাহিনী মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার ভোরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে আকস্মিক এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই গ্রামটি একটি পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত।

নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গগুল জানান, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি সীমান্তে টহল কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে চলমান একটি প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “চরম আবহাওয়ার কারণে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে প্রশিক্ষণস্থলে ভূমিধস দেখা দেয়।”

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (BNPB) মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বের ১৭ জনের সংখ্যা থেকে বেশি। এখনও ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের এই তালিকায় সেনাসদস্যরা অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এবং উদ্ধারকাজে প্রায় ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নয়টি খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। আবদুল মুহারি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম থেকে প্রায় ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে জাভা দ্বীপ বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত সপ্তাহে রাজধানী জাকার্তাসহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা পরিলক্ষিত হয়েছে।

এই ঘটনার মাত্র দুই মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসের প্রভাবে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই দুর্যোগে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল এবং এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।