আসন্ন গণভোটের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল নির্বাচনী কর্মকর্তাদের গণভোটের প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো পক্ষেই নির্বাচনী কর্মকর্তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের সামগ্রিক সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি হওয়া থেকে রক্ষা করা। কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা যদি গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হন, তবে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের কার্যকলাপ নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে শুধু ক্ষুণ্ণই করবে না, বরং নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, “নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) কেউই গণভোট-সংক্রান্ত কোনো প্রচারে যুক্ত হতে পারবেন না। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হবে।”
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রিটার্নিং কর্মকর্তারাও এই নির্দেশনা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, নির্দেশনা জারির পর তারা গণভোট ইস্যুতে প্রচারণায় আর যুক্ত থাকছেন না। একইভাবে, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তার পূর্ণ মনোযোগের কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দিয়ে থাকে, তবে তা সঠিক কাজ করেছে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার চাইলে তার জায়গা থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে; কিন্তু নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে।”
এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধির কিছু ধারা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় কমিশন সেগুলো সংশোধনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, রাজনৈতিক জনসভায় সর্বোচ্চ তিনটি মাইক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও, ভোটার স্লিপ বিতরণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে শুধু কেন্দ্র ও ভোটার তথ্য সম্বলিত স্লিপ বিতরণের নিয়ম থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে প্রার্থী তার নাম, দলীয় পরিচয় এবং প্রতীক সংবলিত ভোটার স্লিপ সরবরাহ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন এই প্রসঙ্গে জানান, জনসভায় তিনটি মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার স্লিপেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনের মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধন স্বাভাবিক চর্চা নয়। এতে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন ছিল।”
রিপোর্টারের নাম 























