উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপের পক্ষে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্ক রুটে বলেন, “যদি কেউ মনে করেন ইউরোপ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া নিজেদের রক্ষা করতে পারবে, তবে তারা অলীক স্বপ্নে বিভোর রয়েছেন। এটি কার্যত অসম্ভব।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাধীনতার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা বজায় রাখতে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে অবশ্যই সামরিক বাজেট বাড়াতে হবে এবং পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে হবে।
বক্তব্যে ন্যাটো প্রধান ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে তিনি ইউরোপের জন্য আলাদা কোনো প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রস্তাবকে সরাসরি নাকচ করে দেন। রুটের মতে, এমন উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, যা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মার্ক রুটে জানান, আর্কটিক অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তায় ন্যাটো ভবিষ্যতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে। তবে এই দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত। উল্লেখ্য, ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু মন্তব্যের কারণে ট্রান্স-আটলান্টিক জোটে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তবে রুটের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে।
আফগানিস্তান যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মহাসচিব বলেন, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি তথ্য তুলে ধরে বলেন, আফগানিস্তানে প্রতি দুইজন মার্কিন সেনার আত্মত্যাগের বিপরীতে একজন মিত্র দেশের সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই যৌথ প্রচেষ্টার প্রতি ওয়াশিংটন সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূলত বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের ওপরই তিনি তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























