রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) প্রতিটি বাস থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। বিআরটিসির যত বাস রাস্তায় চলাচল করে, তার প্রায় সবগুলো থেকেই কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। আমি দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করে বলছি, প্রতিটি বাস থেকেই এই দূষণকারী ধোঁয়া বের হয়। এই বিষয়টি কি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল?”
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “গত দশ মাস ধরে আমি একটি স্ক্র্যাপ পলিসি (পুরোনো ও অকেজো যানবাহন বাতিলের নীতি) প্রণয়নের জন্য বারবার অনুরোধ করছি। সড়ক পরিবহন বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও এ বিষয়ে কতবার যোগাযোগ করেছেন, তা আমার জানা নেই। গত অক্টোবরের ২৮ তারিখে এই স্ক্র্যাপ পলিসি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা যদি কিছু দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে অন্য কেউ এই দায়িত্ব নেবে না।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “প্রতিটি বাস থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া একটি গুরুতর সমস্যা। এই বাসগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেন্যান্স) আওতায় আনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। যেসব বাসের বয়স অনেক বেশি, আমরা বলছি না যে সেগুলো আজই সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু অন্ততপক্ষে সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক। পুরোনো বাস বদলাতে যদি সময়ও লাগে, তবুও একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা কার্যকর করা উচিত। প্রায় ৫৪ বছর ধরে এই অবস্থা চলছে, আর কত সময় প্রয়োজন?”
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























