ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

পটুয়াখালী-৩: বিএনপি সমর্থিত নুরের সামনে ‘বিদ্রোহী’ মামুন কাঁটা, উত্তপ্ত নির্বাচনি মাঠ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত এই জনপদে এখন বইছে নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ে এ আসনটি এখন সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার দ্বন্দ্বে ভোটের লড়াই এখন ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।

এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুনের মধ্যে। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়ে তার ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। দলের একটি বড় অংশ এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই অবস্থান নিয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে। ফলে বিএনপির ভোটব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই এই আসনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিএনপি থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পছন্দের নেতা হাসান মামুন মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির মতো ঘটনায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে উপজেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও মাঠের উত্তাপ কমেনি। বরং বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও হাসান মামুনের পক্ষে নেতাকর্মীদের ঢল নির্বাচনি মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, দুই প্রধান প্রার্থীর এই লড়াইয়ের মাঝেই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক শাহ আলম। সুশৃঙ্খল প্রচার ও নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিক ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন, যার একটি নির্দিষ্ট ভোটার গোষ্ঠী জয়ের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে গলাচিপা ও দশমিনার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় নির্দেশ বনাম ব্যক্তিগত পছন্দের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কার গলায় ওঠে, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছে পটুয়াখালীবাসী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন একটাই আলোচনা—বিএনপির তৃণমূলের সমর্থন কি নুরের ‘ট্রাক’কে পার করে দেবে, নাকি মামুনের ‘ঘোড়া’ বাজিমাত করবে?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পটুয়াখালী-৩: বিএনপি সমর্থিত নুরের সামনে ‘বিদ্রোহী’ মামুন কাঁটা, উত্তপ্ত নির্বাচনি মাঠ

আপডেট সময় : ১০:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত এই জনপদে এখন বইছে নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ে এ আসনটি এখন সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার দ্বন্দ্বে ভোটের লড়াই এখন ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।

এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুনের মধ্যে। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়ে তার ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। দলের একটি বড় অংশ এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই অবস্থান নিয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে। ফলে বিএনপির ভোটব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই এই আসনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিএনপি থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পছন্দের নেতা হাসান মামুন মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির মতো ঘটনায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে উপজেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও মাঠের উত্তাপ কমেনি। বরং বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও হাসান মামুনের পক্ষে নেতাকর্মীদের ঢল নির্বাচনি মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, দুই প্রধান প্রার্থীর এই লড়াইয়ের মাঝেই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক শাহ আলম। সুশৃঙ্খল প্রচার ও নিজস্ব ভোটব্যাংক নিয়ে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিক ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন, যার একটি নির্দিষ্ট ভোটার গোষ্ঠী জয়ের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে গলাচিপা ও দশমিনার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় নির্দেশ বনাম ব্যক্তিগত পছন্দের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কার গলায় ওঠে, তা দেখতেই এখন মুখিয়ে আছে পটুয়াখালীবাসী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন একটাই আলোচনা—বিএনপির তৃণমূলের সমর্থন কি নুরের ‘ট্রাক’কে পার করে দেবে, নাকি মামুনের ‘ঘোড়া’ বাজিমাত করবে?