দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিশাল জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা তীব্র শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ৬৫ হাজার ৪৫৭টি পদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১০৬টি পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। যদিও এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৫টি পদে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে, তবে তাতেও সংকটের পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৩টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৬টি পদ।
দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র এক থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা পরিচালনা করতে হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, আইনি জটিলতা, পদোন্নতিতে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা গ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তিনটি জেলায় মৌখিক পরীক্ষার তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই এই ১৪ হাজার ৩৮৫ জন নতুন শিক্ষককে নিয়োগপত্র প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নতুন এই শিক্ষকরা কর্মস্থলে যোগ দিলে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
রিপোর্টারের নাম 























