বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে ঢাকার বিদ্যমান সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখার যে কৌশল দিল্লি গ্রহণ করেছে, তা মোকাবিলা করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতের দীর্ঘদিনের একতরফা প্রভাব কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব বেশি সংহত হতে না পারে এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নানামুখী সংকটের মুখোমুখি হয়, সে লক্ষ্যে দিল্লি ভিন্নধর্মী কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তে উত্তেজনা, সংখ্যালঘু ইস্যু এবং পানিবণ্টন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি অত্যন্ত উজ্জ্বল। এই ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ যখন বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে, তখন দিল্লির পক্ষ থেকে আসা এই ধরনের চাপ মূলত বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় জয় হবে যেকোনো ধরনের অযাচিত চাপকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা। দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং রাষ্ট্র মেরামতের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহ্যিক কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই এগিয়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ। জনগণের আশা, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার সকল প্রকার কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ প্রশস্ত করবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, দিল্লির এই শেষ চেষ্টা বা চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই হবে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় বিজয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 






















