ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সম্প্রতি একটি যুগান্তকারী বিল পাস হয়েছে, যার লক্ষ্য ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত রাখা। শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার এই উদ্যোগকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চলা দীর্ঘ অধিবেশনে বিলটি গৃহীত হয়। পরবর্তী ধাপে এটি উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে, যেখানে অনুমোদন পেলে এটি আইনে পরিণত হবে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই সিদ্ধান্তকে ফরাসি শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় “একটি বড় অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রস্তাবিত এই আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি উচ্চবিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ার পর ফ্রান্সই হবে দ্বিতীয় দেশ, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, শিশু ও কিশোরদের আবেগ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং সেগুলো বিদেশি প্ল্যাটফর্ম বা অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে এই আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর রেনেসাঁ পার্টির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল আশা প্রকাশ করেছেন যে, সিনেট ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বিলটি অনুমোদন করবে, যাতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বয়সসীমা না মানা অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
আতাল মনে করেন, এই আইন শুধু কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধেও ভূমিকা রাখবে।
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা এএনএসইএস চলতি মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম কিশোর-কিশোরীদের—বিশেষ করে মেয়েদের—মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে সাইবার বুলিং ও সহিংস কনটেন্টের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়।
আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ১৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্করা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ সেবায় প্রবেশ করতে পারবে না। তবে অনলাইন বিশ্বকোষ ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। আইন কার্যকরের জন্য একটি কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থাও চালুর কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ইউরোপীয় পর্যায়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























