ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গণভোট প্রচারে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা, মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধনে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোটের প্রচারে কোনো প্রকার যুক্ত না হতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল নির্বাচনি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো পক্ষের প্রচারে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানোর কথাও ভাবছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গণভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচারে যুক্ত হলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) কেউই গণভোট-সংক্রান্ত কোনো প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সরকারকেও অবহিত করা হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা শুরুতে গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কিছুটা সরব ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাওয়ার পর এখন আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত নন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জানান, তিনি গণভোটের পক্ষে কোনো প্রচারে যুক্ত নন এবং তার পুরো মনোযোগ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দিকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনাকে সঠিক বলে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার তার জায়গা থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারলেও, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন কাজ করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে। নৈতিকভাবেও তাদের এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই।

এদিকে, নির্বাচনের মাঝপথে এসে নির্বাচনি আচরণবিধি সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তফসিল ঘোষণার দেড় মাস পর আচরণবিধি পরিবর্তনের এই উদ্যোগ কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আচরণবিধির কয়েকটি ধারা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে এগুলো সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, রাজনৈতিক জনসভায় সর্বোচ্চ তিনটি মাইক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এখন দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও, ভোটার স্লিপে আগে কেবল কেন্দ্র ও ভোটার তথ্য থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে প্রার্থী তার নাম, দলীয় পরিচয় ও প্রতীক সংবলিত ভোটার স্লিপ সরবরাহ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জনসভায় মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং ভোটার স্লিপে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার স্লিপ সরবরাহে প্রার্থীর কোনো সুবিধা না থাকলে তিনি কেন তা দেবেন—এই বিবেচনা থেকেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনের মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক চর্চা নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

গণভোট প্রচারে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা, মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধনে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোটের প্রচারে কোনো প্রকার যুক্ত না হতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল নির্বাচনি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো পক্ষের প্রচারে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানোর কথাও ভাবছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গণভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচারে যুক্ত হলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) কেউই গণভোট-সংক্রান্ত কোনো প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সরকারকেও অবহিত করা হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা শুরুতে গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কিছুটা সরব ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাওয়ার পর এখন আর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত নন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জানান, তিনি গণভোটের পক্ষে কোনো প্রচারে যুক্ত নন এবং তার পুরো মনোযোগ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দিকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনাকে সঠিক বলে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। সরকার তার জায়গা থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারলেও, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন কাজ করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে। নৈতিকভাবেও তাদের এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই।

এদিকে, নির্বাচনের মাঝপথে এসে নির্বাচনি আচরণবিধি সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তফসিল ঘোষণার দেড় মাস পর আচরণবিধি পরিবর্তনের এই উদ্যোগ কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আচরণবিধির কয়েকটি ধারা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে এগুলো সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, রাজনৈতিক জনসভায় সর্বোচ্চ তিনটি মাইক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এখন দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক মাইক ও শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও, ভোটার স্লিপে আগে কেবল কেন্দ্র ও ভোটার তথ্য থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে প্রার্থী তার নাম, দলীয় পরিচয় ও প্রতীক সংবলিত ভোটার স্লিপ সরবরাহ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জনসভায় মাইক ব্যবহারের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং ভোটার স্লিপে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার স্লিপ সরবরাহে প্রার্থীর কোনো সুবিধা না থাকলে তিনি কেন তা দেবেন—এই বিবেচনা থেকেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনের মাঝপথে আচরণবিধি সংশোধনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক চর্চা নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।