সৌদি আরব তাদের উচ্চাভিলাষী মেগা প্রকল্প ‘নিওম’-এর পরিধি ও আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বছরব্যাপী অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর প্রকল্পটির নকশা নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং খরচও কমানো হচ্ছে। মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অংশ ‘দ্য লাইন’ শহরও নতুন করে ডিজাইন করা হচ্ছে, যা এর প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক ছোট হবে।
২০১৭ সালে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগরের উপকূল বরাবর এই ‘নিওম’ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। বেলজিয়ামের আয়তনের প্রায় সমান বিস্তৃত এই প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং উচ্চাভিলাষী নির্মাণ উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘দ্য লাইন’ শহরটি তার মূল নকশার চেয়ে অনেক ছোট আকারে নির্মিত হতে পারে, এমনকি এটি একটি সাধারণ নগর পরিকল্পনায় রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যেখানে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, সৌদি আরব যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হতে চাইছে, তাই ‘নিওম’ নিজেই ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে, এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন ট্রোজেনা স্কি রিসোর্টও ছোট করা হবে। ২০২৯ সালে দেশটিতে এশিয়ান শীতকালীন গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, এখন তা বাতিল করা হয়েছে। উপকূলীয় শিল্প ও সরবরাহ অঞ্চল ‘অক্সাগন’-এর নির্মাণ নকশাও নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়ে। এছাড়া, ২০৩০ সালের রিয়াদ এক্সপো এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দেশটির বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, যা এই ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।
‘নিওম’ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে উপযোগিতা সৃষ্টি করে এমন বিষয়গুলোকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছেন। কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ কারণেই কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং অনেক নির্মাণকাজ মূল নকশা অনুসারে হবে না।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন এই প্রকল্পে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর প্রকল্পের দীর্ঘদিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাযমি আল-নাসরের পদত্যাগের পর নতুন প্রধান নির্বাহী আইমান আল-মুদাইফার এই পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেন, যা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষের দিকে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেও উল্লেখ করেছেন যে, জনস্বার্থে প্রয়োজনে অনেক প্রকল্প বাতিল করা হবে অথবা আমূল পরিবর্তন করা হবে। এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























