দেশের জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতের ভবিষ্যৎ কেন্দ্র হিসেবে মহেশখালীকে গড়ে তুলতে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি কৌশলগত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে সরকার। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র (মিডা) প্রথম গভর্নিং বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সাংবাদিকদের জানান, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি ‘স্বল্পমেয়াদী ভূমি বরাদ্দ পরিকল্পনা’ অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মেটানোই হবে মিডার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রোডম্যাপের আওতায় মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) টার্মিনাল স্থাপনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নির্বাহী চেয়ারম্যানের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এসব অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মহেশখালীর প্রাকৃতিক সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে এই মাস্টারপ্ল্যানে বহুমুখী অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে একটি বিশেষায়িত ‘মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব’ স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মিডার জনবল কাঠামো সুসংহত করার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। মেগা প্রকল্পগুলোর তদারকি ও উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল করতে ১৩৭ জনবল নিয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাস থেকে মিডা তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। সংবাদ ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















