ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

চানখারপুল গণহত্যা: ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০১ সংগঠনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর চানখারপুলে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া রায়কে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ১০১টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই ঐক্য’ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, চানখারপুলের ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বিবেচনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সরাসরি গুলিবর্ষণকারী কনস্টেবল সুজনকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর দুই অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক। এমন রায়কে শহীদের রক্তের সঙ্গে চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ছাত্র-জনতার লং মার্চ প্রতিহত করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে এবং এডিসি আখতারুল ইসলাম বিপুর নেতৃত্বে চানখারপুল মোড়ে অবস্থান নিয়েছিল পুলিশের একটি দল। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর চাইনিজ রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় কনস্টেবল সুজনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সেই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে কনস্টেবল সুজনকে উল্লাস করতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। এমনকি অভিযুক্ত সুজনের পক্ষে তার আইনজীবী আদালতে কোনো জোরালো যুক্তিতর্কও উপস্থাপন করতে পারেননি। এমন অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরাসরি খুনের দায়ে অভিযুক্তকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান এবং বাকিদের অব্যাহতি দেওয়ায় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই রায়ের মাধ্যমে চানখারপুলের ছয় শহীদের আত্মদানকে খাটো করা হয়েছে। খুনি সুজন যখন একের পর এক গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছিল, তখন তার সেই পৈশাচিক উল্লাস পুরো জাতি দেখেছে। সেই অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে লঘু দণ্ড প্রদান করা বিচারিক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই রায় অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা না হলে তারা রাজপথে কঠোরতম কর্মসূচি ঘোষণা করবে। শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি বরদাশত করা হবে না। রায় সংশোধন করা না হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হলো— আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, পুনাব, পুশাব, নেক্সাস ডিফেন্স, সাধারণ আলেম সমাজ, জাগ্রত জুলাই, জুলাই মঞ্চ, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রসংগঠন (কছাস), বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই ছাত্র জনতা সংসদ।

এছাড়াও বিবৃতিতে সংহতি জানিয়েছে— বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ, জেন-জি স্টুডেন্ট ইউনিটি, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব (ঢাকা কলেজ), সিসিএস-জাতীয় ভোক্তা অধিকার, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক (ঢাবি), পিপলস রিফর্ম অ্যালায়েন্স, জুলাই বিপ্লবী যুব সংগঠন, গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র জনতা মঞ্চ, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, সোসাইটি ফর স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট, ইয়থ ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসেস, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, দ্য স্কলারস ফাউন্ডেশন, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকানসহ মোট ১০১টি সংগঠন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

চানখারপুল গণহত্যা: ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০১ সংগঠনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর চানখারপুলে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া রায়কে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ১০১টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই ঐক্য’ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, চানখারপুলের ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় বিবেচনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সরাসরি গুলিবর্ষণকারী কনস্টেবল সুজনকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর দুই অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক। এমন রায়কে শহীদের রক্তের সঙ্গে চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ছাত্র-জনতার লং মার্চ প্রতিহত করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে এবং এডিসি আখতারুল ইসলাম বিপুর নেতৃত্বে চানখারপুল মোড়ে অবস্থান নিয়েছিল পুলিশের একটি দল। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর চাইনিজ রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় কনস্টেবল সুজনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সেই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে কনস্টেবল সুজনকে উল্লাস করতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। এমনকি অভিযুক্ত সুজনের পক্ষে তার আইনজীবী আদালতে কোনো জোরালো যুক্তিতর্কও উপস্থাপন করতে পারেননি। এমন অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরাসরি খুনের দায়ে অভিযুক্তকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান এবং বাকিদের অব্যাহতি দেওয়ায় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই রায়ের মাধ্যমে চানখারপুলের ছয় শহীদের আত্মদানকে খাটো করা হয়েছে। খুনি সুজন যখন একের পর এক গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছিল, তখন তার সেই পৈশাচিক উল্লাস পুরো জাতি দেখেছে। সেই অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে লঘু দণ্ড প্রদান করা বিচারিক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই রায় অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা না হলে তারা রাজপথে কঠোরতম কর্মসূচি ঘোষণা করবে। শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি বরদাশত করা হবে না। রায় সংশোধন করা না হলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হলো— আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, পুনাব, পুশাব, নেক্সাস ডিফেন্স, সাধারণ আলেম সমাজ, জাগ্রত জুলাই, জুলাই মঞ্চ, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রসংগঠন (কছাস), বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই ছাত্র জনতা সংসদ।

এছাড়াও বিবৃতিতে সংহতি জানিয়েছে— বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ, জেন-জি স্টুডেন্ট ইউনিটি, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব (ঢাকা কলেজ), সিসিএস-জাতীয় ভোক্তা অধিকার, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক (ঢাবি), পিপলস রিফর্ম অ্যালায়েন্স, জুলাই বিপ্লবী যুব সংগঠন, গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র জনতা মঞ্চ, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, সোসাইটি ফর স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট, ইয়থ ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসেস, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, দ্য স্কলারস ফাউন্ডেশন, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকানসহ মোট ১০১টি সংগঠন।