বাংলাদেশের কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল, উৎপাদনক্ষম ও টেকসই করার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) স্বয়ংক্রিয় সেচ পদ্ধতির উপর দুই দিনব্যাপী এক কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ প্রদর্শনী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান ও উপকারিতা তুলে ধরা হয়।
গাকৃবির কৃষি যন্ত্র ও সূক্ষ্ম প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে এই প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। পানি সাশ্রয়, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ ছিল এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। এখানে স্বয়ংক্রিয় অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে ধান চাষ এবং স্মার্ট ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে সবজি উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মোঃ মসিউল ইসলাম। গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রশিক্ষণে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন গাকৃবির কৃষি যন্ত্র ও সূক্ষ্ম প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান। এছাড়া, গাকৃবির সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মইনুল হোসেইন অলিভার এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সহকারী গবেষক আব্দুল্লা আল মোহাইমিন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। গাজীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ১০০ জন কৃষক এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় পানি সাশ্রয়ী ও স্মার্ট সেচ প্রযুক্তি গ্রহণ এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। এ ধরনের প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ কৃষি নিশ্চিত করবে।” তিনি আধুনিক কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের সরাসরি মাঠে হাতে-কলমে শিক্ষাদানের এক পর্যায়ে প্রশিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান জানান, স্বয়ংক্রিয় অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং এবং স্মার্ট ড্রিপ সেচ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব। একই সঙ্গে শ্রম ও সেচ ব্যয় হ্রাস পায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত হয়, যা টেকসই কৃষির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে নিজ নিজ জমিতে এসব প্রযুক্তি প্রয়োগের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা জানান। প্রশিক্ষণের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্র।
রিপোর্টারের নাম 






















