জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই ঐক্য’ অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ প্রদানে ইসিতে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন বা বাণিজ্য হয়েছে।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই ঐক্যের’ সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সহ বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ইসি নিজেদের খেয়ালখুশি মতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় আইনকে উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বৈধতা ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও এ বিষয়ে কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না। ‘জুলাই ঐক্যের’ নেতারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা জাতির সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করারও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীতে হত্যা করা হয় ‘জুলাই ঐক্যের’ অন্যতম সংগঠক ও ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে। সংগঠনটির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও দেখাতে পারেনি।
‘জুলাই ঐক্য’ জাতীয় পার্টিকে ভারতের প্রক্সি সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে দাবি করে, এই কমিশন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। তারা ২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায়। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সকল দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনটি তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে, ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার (আজ) দুপুর আড়াইটায় আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালন করবে ‘জুলাই ঐক্য’।
এছাড়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (মেট্রো স্টেশন) থেকে ‘মার্চ টু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ‘জুলাই ঐক্যের’ সংগঠক প্লাবন তারেক, ইসরাফিল ফরাজী এবং মুন্সি বুরহান।
রিপোর্টারের নাম 






















