নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে, প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার চালাচ্ছেন: নির্বাচন কমিশন সচিব
ঢাকা: আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে নির্বাচনে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারকার্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারছেন।
গতকাল নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব উল্লেখ করেন যে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোতে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে নিষ্পত্তিতে অধিক সময় লাগতে পারে। তাই, এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি অথবা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য তিনি প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে বিষয়টি জানান এবং তার একটি কপি আমাদের কাছে পাঠান। আমরা বিষয়টি অনুসরণ করব। কিন্তু যদি আপনারা আশা করেন যে আমি নিজে প্রতিটি এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখব, তবে তা আমার জন্য ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।”
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, বৈঠকে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কেও একটি বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হয়। এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানসহ মোট ৪১ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কূটনীতিকরা মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন। তারা জানতে চেয়েছিলেন যে, প্রথাগতভাবে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের কাজ করে থাকে। বিশেষ করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কমান্ড স্ট্রাকচার এবং ভোট গণনার সময়সীমা নিয়ে তাদের আগ্রহ ছিল বেশি।
সিনিয়র সচিব জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কূটনীতিকদের বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব এবং আনসারের মতো বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এবার ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পুলিশ সদস্যের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ভোট গণনার সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করতে তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা অথবা চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে, এটি ভোটদানের হারের ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও জানান যে, প্রবাসী ভোটারদের কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য একটি এবং দেশের অভ্যন্তরের ভোটারদের জন্য আরেকটি – মোট দুটি ভিন্ন ধরনের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে। প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালট পেপারটি এ-ফোর সাইজের এবং দুই পাশে মুদ্রিত হওয়ায় সিম্বল স্ক্যান করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হবে।
আখতার আহমেদ ব্যাখ্যা করেন যে, কোনো সংসদীয় আসনে শতাধিক কেন্দ্র থাকলেও, সেটির পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থাকবে। সেখানে সকল আসনের পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করে তারপর গণনা করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট একটি কেন্দ্রে গণনা করা হলে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগবে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিটি আসনের জন্য ৩০০টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে তারা যেন সরাসরি এই কমিটি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানান এবং তার একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠান। তাহলে কমিশন থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, “আপনারা সাংবাদিকরা আমাদের চোখ। ঢাকা শহরে সব রাস্তা আমার পক্ষে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। তাই, আপনারা অভিযোগগুলো কমিটির কাছে জানান এবং একটি কপি আমাদের পাঠান – আমি অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব। কিন্তু আপনারা যদি প্রত্যাশা করেন যে আমি নিজে প্রতিটি জায়গায় গিয়ে দেখব, তাহলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।”
রিপোর্টারের নাম 






















