ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির নতুন নীতিমালা জারি

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির জন্য নতুন নীতিমালা জারি

ঢাকা: কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এই নীতিমালায় প্যারোলে মুক্তির শর্তাবলী, সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা পূর্ববর্তী সকল নীতিমালাকে বাতিল করেছে।

সোমবার সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ ও বিশেষ উভয় ক্ষেত্রেই কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

সাধারণ নীতিমালা:

নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু: ভিআইপি বা অন্য যেকোনো শ্রেণির কয়েদি বা হাজতি বন্দিদের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোনের মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
বিশেষ পরিস্থিতি: নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও, আদালতের আদেশ অথবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
নিরাপত্তা ও সময়সীমা: উভয় ক্ষেত্রেই প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা এবং দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে সময়সীমা নির্ধারণ করবেন। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশি প্রহরায় রাখতে হবে। প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে, বিশেষ প্রয়োজনে সরকার এই সময়সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার: কোনো বন্দি জেলার কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার বা সাব-জেলে আটক থাকলে, ওই জেলার অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের থাকবে। যদি কোনো বন্দি নিজ জেলার বাইরে অন্য কোনো জেলায় আটক থাকেন, তবে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্যারোল মঞ্জুর বা না-মঞ্জুরের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুনরায় কারাগারে পৌঁছে দেবে।

প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ:

সংশ্লিষ্ট জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিল:

এই নতুন নীতিমালার আলোকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক কারা শাখা-২ থেকে গত ২২-০৯-২০০৭ খ্রি. তারিখে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ এবং ০৪-০৩-২০১০ খ্রি. তারিখে স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭ নম্বর স্মারকমূলে জারিকৃত সকল নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমান নীতিমালাটি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির নতুন নীতিমালা জারি

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির জন্য নতুন নীতিমালা জারি

ঢাকা: কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এই নীতিমালায় প্যারোলে মুক্তির শর্তাবলী, সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা পূর্ববর্তী সকল নীতিমালাকে বাতিল করেছে।

সোমবার সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ ও বিশেষ উভয় ক্ষেত্রেই কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

সাধারণ নীতিমালা:

নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু: ভিআইপি বা অন্য যেকোনো শ্রেণির কয়েদি বা হাজতি বন্দিদের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোনের মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।
বিশেষ পরিস্থিতি: নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও, আদালতের আদেশ অথবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
নিরাপত্তা ও সময়সীমা: উভয় ক্ষেত্রেই প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা এবং দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে সময়সীমা নির্ধারণ করবেন। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশি প্রহরায় রাখতে হবে। প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে, বিশেষ প্রয়োজনে সরকার এই সময়সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার: কোনো বন্দি জেলার কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার বা সাব-জেলে আটক থাকলে, ওই জেলার অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের থাকবে। যদি কোনো বন্দি নিজ জেলার বাইরে অন্য কোনো জেলায় আটক থাকেন, তবে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্যারোল মঞ্জুর বা না-মঞ্জুরের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুনরায় কারাগারে পৌঁছে দেবে।

প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ:

সংশ্লিষ্ট জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিল:

এই নতুন নীতিমালার আলোকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক কারা শাখা-২ থেকে গত ২২-০৯-২০০৭ খ্রি. তারিখে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ এবং ০৪-০৩-২০১০ খ্রি. তারিখে স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭ নম্বর স্মারকমূলে জারিকৃত সকল নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমান নীতিমালাটি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।