আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলারের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে। প্রায় এক দশক পর সিঙ্গাপুর ডলার তার সর্বোচ্চ মানে পৌঁছেছে, যা এশীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে এমন প্রত্যাশার মধ্যে মুদ্রাটির এই শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুর ডলার আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে।
জাপানের সম্ভাব্য মুদ্রা হস্তক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিতের কারণে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়েছে। এই দুর্বলতার প্রভাবে সিঙ্গাপুর ডলার ০.৩ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১.২৬৮৪ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৩ জানুয়ারি নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার পর্যালোচনার পর থেকেই মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় জাপানি ইয়েনের মূল্যও ১.২ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের এই দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্যান্য এশীয় মুদ্রাও লাভবান হয়েছে। মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওন প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত সুদের হার পরিবর্তনের চেয়ে মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। দেশটির স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতি, শক্তিশালী শেয়ারবাজার এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি বন্ড বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এর ফল হিসেবে গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সিঙ্গাপুরের ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল নীতি ভবিষ্যতেও দেশটির মুদ্রাকে শক্ত অবস্থানে ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 























