ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন ভিসা নীতি: সর্বোচ্চ ৩ মাস, জামানতসহ ‘ভিসা বন্ড’

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা প্রদানের নতুন নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়মের আওতায় ‘ভিসা বন্ড’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে আবেদনকারীদের জামানত পরিশোধ করতে হবে। সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক তথ্যবার্তার মাধ্যমে এই পাইলট প্রোগ্রামের বিস্তারিত জানিয়েছে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করেছিল। একই সঙ্গে, এই পাইলট প্রোগ্রামে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম যেভাবে কাজ করবে:

মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা সাক্ষাৎকারে যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর মাধ্যমে বন্ড পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দেবেন। ভিসা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে এই বন্ড পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এই বন্ডের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। তবে, নির্দিষ্ট কিছু বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। ভিসার সকল শর্ত, যেমন—যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসা—পালন করলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরতযোগ্য হবে।

১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানতের ঝুঁকি:

‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি মানে হলো, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে সে দেশে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ:

ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে: বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK), এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত দেশ:

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল এবং উগান্ডা রয়েছে। দেশভেদে এই নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তারিখে কার্যকর হবে।

‘ভিসা বন্ড’ কী?

ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা ভিসার শর্ত—বিশেষত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা—পালন নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তা ভিসা ওভারস্টে হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়মাবলি বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিকে আরও ব্যয়বহুল এবং জটিল করে তুলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন ভিসা নীতি: সর্বোচ্চ ৩ মাস, জামানতসহ ‘ভিসা বন্ড’

আপডেট সময় : ০২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা প্রদানের নতুন নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়মের আওতায় ‘ভিসা বন্ড’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে আবেদনকারীদের জামানত পরিশোধ করতে হবে। সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক তথ্যবার্তার মাধ্যমে এই পাইলট প্রোগ্রামের বিস্তারিত জানিয়েছে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করেছিল। একই সঙ্গে, এই পাইলট প্রোগ্রামে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম যেভাবে কাজ করবে:

মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা সাক্ষাৎকারে যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর মাধ্যমে বন্ড পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দেবেন। ভিসা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে এই বন্ড পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এই বন্ডের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। তবে, নির্দিষ্ট কিছু বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। ভিসার সকল শর্ত, যেমন—যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসা—পালন করলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরতযোগ্য হবে।

১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানতের ঝুঁকি:

‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি মানে হলো, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে সে দেশে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ:

ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে: বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK), এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যান্য অন্তর্ভুক্ত দেশ:

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল এবং উগান্ডা রয়েছে। দেশভেদে এই নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তারিখে কার্যকর হবে।

‘ভিসা বন্ড’ কী?

ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা ভিসার শর্ত—বিশেষত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা—পালন নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তা ভিসা ওভারস্টে হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়মাবলি বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিকে আরও ব্যয়বহুল এবং জটিল করে তুলবে।