ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস নয় দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ন্যায়বিচার মেলেনি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১২টার দিকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীর হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি। তারা প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তাকে ‘অদক্ষতা’ বা ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রশাসন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়, তবে তারা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “আমরা প্রতিদিন শুনছি খুনিদের মুখোশ উন্মোচন হবে, কিন্তু কবে হবে, কীভাবে হবে তা আমরা জানি না। প্রশাসন শুধু বলছে রিপোর্ট আসছে, কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে আমরা সন্দিহান।” তিনি আরও বলেন, “এই রহস্য উন্মোচিত না হলে আমরা কেউ নিরাপদ নই। সাজিদের মতো পরিণতি যদি আমাদেরও ভোগ করতে হয়, তবে প্রশাসনের কাছে আমরা আর কী দাবি জানাবো?” তিনি অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবের কারণে সত্য উদ্ঘাটন হচ্ছে কিনা, তা জানতে চান।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে, কিন্তু আমাদের সহপাঠী সাজিদ নেই, তার হত্যার বিচারও নেই। গত ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক গড়িমসি করেছে, যা আর চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ব্যর্থ প্রক্টরকে আগামীকালের (মঙ্গলবার) বিকেল চারটার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় আপনি (প্রশাসন) তাকে অপসারণ করুন।”
এছাড়াও, ছাত্রদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি আগামীকাল বিকেল চারটার মধ্যে প্রক্টর পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অপসারণ করা না হয়, তবে আগামী বুধবার বেলা এগারোটায় উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















