ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

উত্তাল সমুদ্রে ফিলিপাইনে ফেরিডুবি, প্রাণহানি বেড়ে ১৮, ২৪ জন নিখোঁজ

দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার ভোরে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি উত্তাল সমুদ্রে ডুবে যায়। এখনো ২৪ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিপৎসংকেত পাঠায় ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি। ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিপৎসংকেত পাঠানোর প্রায় চার ঘণ্টা আগে ফেরিটি মিন্দানাও দ্বীপের জাম্বোয়াঙ্গা সিটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

দুর্ঘটনার পর বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের কম্বলে মুড়িয়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। অনেককে খালি পায়ে দেখা গেছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য বডি ব্যাগে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনতলা বিশিষ্ট এই ফেরিটি বাসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ডুবে যায়। উল্লেখ্য, একই রুটে গত বছর ‘লেডি মেরি জয়–৩’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে ৩১ জন নিহত হয়েছিল। দুটি জাহাজই স্থানীয় অ্যালেসন শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো জোরদারভাবে চলছে।

ইসাবেলা সিটির এক উদ্ধারকর্মী শেরিল বালোনদো জানান, উদ্বিগ্ন স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দপ্তরে শতাধিক ফোন এসেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এখনো নিখোঁজ ও নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোএমি কায়াবিয়াব প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানান, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ছিল। বাসিলানের জরুরি উদ্ধার দপ্তরের কর্মকর্তা রোনালিন পেরেজ বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত ও উদ্ধারপ্রাপ্তকে পরিষেবা দিতে গিয়ে উদ্ধারকারীরা জনবল সংকটে পড়েছেন। অন্তত ১৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সামুদ্রিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের দাবি, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। অন্যদিকে, অ্যালেসন শিপিং লাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জাহাজে থাকা সবার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে আন্তঃদ্বীপ নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত ফেরির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে অতীতেও বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮৭ সালে ‘ডোনা পাজ’ ফেরি দুর্ঘটনায় চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা শান্তিকালীন সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন, অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি আটক

উত্তাল সমুদ্রে ফিলিপাইনে ফেরিডুবি, প্রাণহানি বেড়ে ১৮, ২৪ জন নিখোঁজ

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার ভোরে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি উত্তাল সমুদ্রে ডুবে যায়। এখনো ২৪ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিপৎসংকেত পাঠায় ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি। ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিপৎসংকেত পাঠানোর প্রায় চার ঘণ্টা আগে ফেরিটি মিন্দানাও দ্বীপের জাম্বোয়াঙ্গা সিটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

দুর্ঘটনার পর বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের কম্বলে মুড়িয়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। অনেককে খালি পায়ে দেখা গেছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য বডি ব্যাগে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনতলা বিশিষ্ট এই ফেরিটি বাসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ডুবে যায়। উল্লেখ্য, একই রুটে গত বছর ‘লেডি মেরি জয়–৩’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে ৩১ জন নিহত হয়েছিল। দুটি জাহাজই স্থানীয় অ্যালেসন শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো জোরদারভাবে চলছে।

ইসাবেলা সিটির এক উদ্ধারকর্মী শেরিল বালোনদো জানান, উদ্বিগ্ন স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দপ্তরে শতাধিক ফোন এসেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এখনো নিখোঁজ ও নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোএমি কায়াবিয়াব প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানান, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ছিল। বাসিলানের জরুরি উদ্ধার দপ্তরের কর্মকর্তা রোনালিন পেরেজ বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত ও উদ্ধারপ্রাপ্তকে পরিষেবা দিতে গিয়ে উদ্ধারকারীরা জনবল সংকটে পড়েছেন। অন্তত ১৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সামুদ্রিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের দাবি, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। অন্যদিকে, অ্যালেসন শিপিং লাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জাহাজে থাকা সবার নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে আন্তঃদ্বীপ নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত ফেরির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে অতীতেও বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮৭ সালে ‘ডোনা পাজ’ ফেরি দুর্ঘটনায় চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা শান্তিকালীন সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।