ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সচিবালয়ে কর্মচাঞ্চল্য, বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার, অফিসপাড়া সর্বত্রই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের আলোচনায় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে গণভোটের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাদের নির্বাচনী ভাবনা ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন, আবার কেউ বা দিয়েছেন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য।

শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান জানান, তার প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন এখনও জমে ওঠেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আমেজ স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময়ে ভোটের আগে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গিয়েছিল। এবার এখনো তেমনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, তবে আশা করছেন সামনের দিনগুলোতে পরিবেশ আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ব্যানারে নারীর ক্ষমতায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অথচ অতীতে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পিতার সম্পত্তি প্রাপ্তির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে সঠিক বণ্টন নিশ্চিত না করে নারীর ক্ষমতায়ন আশা করা যায় না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনছার আলী জানান, প্রত্যেক দপ্তরে গণভোটের প্রচারণার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও গণভোটের প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ আসছে। তিনি আশা করেন, সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন। বিগত নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাত্র ৬-৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে দেখেছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন সেখানে প্রায় ৪১.৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভূমি উপদেষ্টার তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, অনেক বছর পর এবার ভোট দিতে যাচ্ছেন তারা। সবার মধ্যেই ভোট নিয়ে এক ধরনের আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। তিনি বলেন, এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে হ্যাঁ-না ভোট। দেশের ভালোর জন্য যা প্রয়োজন, তা ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে সময়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় চারজনের একটি দল কেন্দ্রে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয়। পরে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে নৌকায় সিল মেরে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রের বক্সে রেখে যায়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ জানান, গণভোটের প্রচারের জন্য সব বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার নির্বাচনে মানুষ তাদের মতামত ব্যালট পেপারে জানাতে পারবেন। ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময়ে তিনি রাজধানীর লালবাগের একটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। রাত ১০টায় হাজী সেলিমের তিনজন লোক এসে তার কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয় এবং প্রায় ভোর ৪টা পর্যন্ত সিল মেরে কেন্দ্র থেকে বের হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গণভোট যদি সরকার চাপিয়ে দেয়, তবে তা প্রকৃত ভোট হিসেবে গণ্য হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের ভোট জেনে-বুঝে দেওয়া উচিত।

সচিবালয়ের এক লিফটম্যান জানান, গণভোটে হ্যাঁ-না বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সচিবালয়ে কেউ তাদের এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে তিনি বিল্ডিংগুলোতে বড় বড় ব্যানার দেখেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই গণভোটে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের সব সরকারি দপ্তরে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সচিবালয়ে কর্মচাঞ্চল্য, বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার, অফিসপাড়া সর্বত্রই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের আলোচনায় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে গণভোটের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাদের নির্বাচনী ভাবনা ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন, আবার কেউ বা দিয়েছেন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য।

শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান জানান, তার প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন এখনও জমে ওঠেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আমেজ স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময়ে ভোটের আগে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গিয়েছিল। এবার এখনো তেমনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, তবে আশা করছেন সামনের দিনগুলোতে পরিবেশ আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ব্যানারে নারীর ক্ষমতায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অথচ অতীতে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পিতার সম্পত্তি প্রাপ্তির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে সঠিক বণ্টন নিশ্চিত না করে নারীর ক্ষমতায়ন আশা করা যায় না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনছার আলী জানান, প্রত্যেক দপ্তরে গণভোটের প্রচারণার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও গণভোটের প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ আসছে। তিনি আশা করেন, সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন। বিগত নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাত্র ৬-৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে দেখেছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন সেখানে প্রায় ৪১.৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভূমি উপদেষ্টার তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, অনেক বছর পর এবার ভোট দিতে যাচ্ছেন তারা। সবার মধ্যেই ভোট নিয়ে এক ধরনের আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। তিনি বলেন, এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে হ্যাঁ-না ভোট। দেশের ভালোর জন্য যা প্রয়োজন, তা ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে সময়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় চারজনের একটি দল কেন্দ্রে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয়। পরে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে নৌকায় সিল মেরে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রের বক্সে রেখে যায়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ জানান, গণভোটের প্রচারের জন্য সব বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার নির্বাচনে মানুষ তাদের মতামত ব্যালট পেপারে জানাতে পারবেন। ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময়ে তিনি রাজধানীর লালবাগের একটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। রাত ১০টায় হাজী সেলিমের তিনজন লোক এসে তার কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয় এবং প্রায় ভোর ৪টা পর্যন্ত সিল মেরে কেন্দ্র থেকে বের হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গণভোট যদি সরকার চাপিয়ে দেয়, তবে তা প্রকৃত ভোট হিসেবে গণ্য হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের ভোট জেনে-বুঝে দেওয়া উচিত।

সচিবালয়ের এক লিফটম্যান জানান, গণভোটে হ্যাঁ-না বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সচিবালয়ে কেউ তাদের এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে তিনি বিল্ডিংগুলোতে বড় বড় ব্যানার দেখেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই গণভোটে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের সব সরকারি দপ্তরে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।