আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, প্রলোভন বা ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে জনগণ অনেক বেশি সচেতন এবং কারো চোখ রাঙানিকে তারা আর ভয় পায় না।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি হাই স্কুল মাঠে গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কোন নেতা কী প্রতিশ্রুতি দেন, কারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না, এবং কারা জনগণের হক নষ্ট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন – এসব তথ্য এখন সবার জানা। তাই মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস বা ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার দিন আর নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের সম্পদ বাড়িয়ে বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ে তুলেছেন এবং দেশের অর্থ পাচার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। এর বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা কখনো অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিএম আজহারুল ইসলাম ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, অর্থ পাচারকারী, আলেম-ওলামা ও বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের হত্যাকারী এবং ইসলাম বিরোধীদের চিরতরে বর্জন করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৪শে জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যেভাবে এ ধরনের শক্তিকে বয়কট করেছিল, আসন্ন নির্বাচনেও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে একই বার্তা দিতে হবে। দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তিনি এই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সাথে তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে একই দিনে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
গোপালপুর ইউনিয়নের ময়না কুড়ি ওয়ার্ডের সভাপতি মহিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শাহ মো: রুস্তম আলী এবং সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম। এছাড়াও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
রিপোর্টারের নাম 






















