ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

গণতান্ত্রিক উত্তরণে গভীর সংস্কার অপরিহার্য: সুজন সংলাপে নির্দলীয় সরকার ও শক্তিশালী ইসি’র তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বিভাগীয় সংলাপে বক্তারা বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও টেকসই গণতন্ত্রের জন্য গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত সংলাপে সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সিলেটের একটি হোটেলে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক এই সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে শুধু নির্বাচন নয়, ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে ড. মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, অর্থের প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাত এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।

বক্তারা গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মজুমদার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা জরুরি। একইসঙ্গে নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক উত্তরণে গভীর সংস্কার অপরিহার্য: সুজন সংলাপে নির্দলীয় সরকার ও শক্তিশালী ইসি’র তাগিদ

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেটে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বিভাগীয় সংলাপে বক্তারা বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও টেকসই গণতন্ত্রের জন্য গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত সংলাপে সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সিলেটের একটি হোটেলে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক এই সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে শুধু নির্বাচন নয়, ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে ড. মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, অর্থের প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাত এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।

বক্তারা গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মজুমদার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা জরুরি। একইসঙ্গে নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।