বিগত দেড় দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে নিয়মতান্ত্রিক লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই সময়ে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দুর্নীতি এবং অসম চুক্তির কারণে সরকারের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাতের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ সংকটকে পুঁজি করে জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। অপরাধ আড়াল করতে এবং জবাবদিহিতা এড়াতে জারি করা হয়েছিল বিতর্কিত দায়মুক্তি অধ্যাদেশ। মূলত এই বিশেষ আইনের আড়ালেই বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের বিশাল ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান আর্থিক সংকট এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অপশাসন ও নীতিগত ব্যর্থতারই ফলাফল। কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে, যা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আইনকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এমনকি জ্বালানি সরবরাহের কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না থাকা সত্ত্বেও একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধি পেলেও কেন্দ্রগুলোর বসিয়ে রাখার ভাড়া বা ‘ক্যাপাসিটি পেমেন্ট’ বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।
কমিটি আরও জানায়, জরুরি আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বারবার বিভিন্ন কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা উপেক্ষা করায় বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া হয়ে পড়েছিল অস্বচ্ছ ও দুর্নীতিগ্রস্ত। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং সেগুলোর পেছনে অস্বাভাবিক ব্যয় বিদ্যুৎ খাতকে বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















