ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচনী নাশকতার জন্য দায়ী থাকবে আওয়ামী লীগ: অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে ‘নির্বাচন বানচালের উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এ ঘটনায় সরকার গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে দলীয় কর্মীদের সহিংস পথে নামার প্ররোচনা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নয়াদিল্লিতে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত রীতিনীতি এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এই বেপরোয়া উসকানিই প্রমাণ করে যে কেন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করবে এবং এর যাবতীয় দায়ভার আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে তাকে ফেরত চেয়ে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

নির্বাচনী নাশকতার জন্য দায়ী থাকবে আওয়ামী লীগ: অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১১:১৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে ‘নির্বাচন বানচালের উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এ ঘটনায় সরকার গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে দলীয় কর্মীদের সহিংস পথে নামার প্ররোচনা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর এবং জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নয়াদিল্লিতে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত রীতিনীতি এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির লঙ্ঘন। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এই বেপরোয়া উসকানিই প্রমাণ করে যে কেন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করবে এবং এর যাবতীয় দায়ভার আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে তাকে ফেরত চেয়ে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।