বাগেরহাটের এক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের অনীহার কথা জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর খবরটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। কারাগারে থাকা সাদ্দামকে তার পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া এবং জেলগেটে দূর থেকে দেখার বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা সমালোচনা চলছে। সচিবালয়ে ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কেবল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। তিনি বলেন, “আমি কৃষি ছাড়া কোনো উত্তর দেবো না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করেন।”
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কঠোর অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন সংবাদকর্মী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কারো জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন, এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে।” জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে নই, আমি অপরাধীদের (ক্রিমিনাল) জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে।”
পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়ে সাংবাদিকরা তাকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে কথা বলতে এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি দায়বদ্ধ না।”
উল্লেখ্য, যশোর কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাফিজের মরদেহ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশে শিশু সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সাদ্দামের পরিবার এবং যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















