ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও প্রখ্যাত সাংবাদিক স্যার মার্ক টালির জীবনাবসান

দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালি আর নেই। ৯০ বছর বয়সে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৩৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা মার্ক টালি ১৯৬৪ সালে লন্ডনে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে (বিবিসি) যোগদানের মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেন। এর ঠিক পরের বছরই তিনি ভারতের দিল্লিতে সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, সমাজ ও বিবর্তনের একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক এবং সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা আসেন। সেই সময় পাকিস্তানি জান্তা সরকার তাকেসহ মাত্র দু’জন বিদেশি সাংবাদিককে এ দেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। ঢাকা থেকে সড়কপথে রাজশাহী যাওয়ার পথে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ এবং ধ্বংসলীলার প্রত্যক্ষদর্শী হন। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার সেই বিভীষিকাময় চিত্র তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে তাঁকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে। মার্ক টালি কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার গণমানুষের নাড়ি ও রাজনীতির ভাষা তিনি গভীরভাবে বুঝতেন।

বিবিসি থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যান। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে পাচারকালে ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ, আটক ১

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও প্রখ্যাত সাংবাদিক স্যার মার্ক টালির জীবনাবসান

আপডেট সময় : ১১:১৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালি আর নেই। ৯০ বছর বয়সে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৩৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা মার্ক টালি ১৯৬৪ সালে লন্ডনে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে (বিবিসি) যোগদানের মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেন। এর ঠিক পরের বছরই তিনি ভারতের দিল্লিতে সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, সমাজ ও বিবর্তনের একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক এবং সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা আসেন। সেই সময় পাকিস্তানি জান্তা সরকার তাকেসহ মাত্র দু’জন বিদেশি সাংবাদিককে এ দেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। ঢাকা থেকে সড়কপথে রাজশাহী যাওয়ার পথে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ এবং ধ্বংসলীলার প্রত্যক্ষদর্শী হন। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার সেই বিভীষিকাময় চিত্র তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে তাঁকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে। মার্ক টালি কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার গণমানুষের নাড়ি ও রাজনীতির ভাষা তিনি গভীরভাবে বুঝতেন।

বিবিসি থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যান। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটল।