সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা বাধা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না।
বিচারপতি মতিন বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, সেই কারণ তাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে। তবে, নাগরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোটদানে বিরত থাকবেন না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের শাসনামলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যা বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, অসংখ্য মানুষের রক্তপাত ও প্রাণহানির পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। এখনো সেই রক্তের দাগ শুকায়নি। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ তাদের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং অনুতপ্ত হলে ক্ষমা লাভ করতে পারে।
বিচারপতি মতিন শেখ হাসিনার ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, তিনি যদি এতই শক্তিশালী হন, তবে কেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন? জনগণ তাকে চায়নি বলেই তাকে পালাতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী একটি দেশ চেয়েছিল বাংলাদেশে কোনো সরকার ক্ষমতায় বসতে বা কাজ করতে না পারুক এবং তারা এ দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি এবং কোনো চাপেই কাজ হয়নি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। ১৪শ মানুষকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি এক অডিও ভাষণে তিনি নিজেকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করেছেন, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা ক্ষমতাচ্যুত শক্তিকে নির্বাচন ভণ্ডুল করার সুযোগ করে দেবে।
‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান’ শীর্ষক ছায়া সংসদে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশর বিতার্কিকগণ তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মশিউর রহমান খান, সাংবাদিক আফরিন জাহান এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















