রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্যকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উত্থাপন করেছে দুটি ছাত্র সংগঠন। রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, উপাচার্যের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনেছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেরোবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মেহেদি হাসান উপাচার্যের বিরুদ্ধে চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান উপাচার্য শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে, সেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তদন্তের ফলাফল আসার আগেই কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেহেদি হাসান আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহার করা হলেও উন্নয়নমূলক তহবিলে কোনো অর্থ দেওয়া হয় না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয় না বলেও জানান তিনি। এসব বিষয়ে তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করবেন বলেও জানান মেহেদি হাসান।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তুহিন রানা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ করেন। একইসাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনেন। তুহিন রানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় সহযোগিতার পরিবর্তে রেজিস্ট্রার অসহযোগিতা করেছেন, যার ফলস্বরূপ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হননি।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দিতে পারে না, এটি ইউজিসি করে। তিনি আরও দাবি করেন, ব্রাকসু নির্বাচন তিনি চাননি এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।
অন্যদিকে, অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ব্রাকসু নির্বাচনের ভোটার তালিকা রেজিস্ট্রার দপ্তর দেয় না, রেজিস্ট্রার দপ্তর শুধু শিক্ষার্থীদের তালিকা দেয়। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সব বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন কাজ করেছে এবং তিনি শুধু সেখানে বাদী হিসেবে ছিলেন। কাকে মামলার আসামি করা হবে, তার দায় রেজিস্ট্রারের নয়। অন্যান্য অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















